আমার বুকের মানিককে আপনারা বাঁচান’

যে বয়সে মেয়েটা হাঁটবে, যখন তার কচি কণ্ঠে মা ডাক শুনে আমার প্রাণ জুড়াবে, সেই বয়সে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। অসুস্থ শরীরে সারাক্ষণ শুয়ে থাকে, কোনো কথা বলতে পারে না। অসহ্য ব্যথায় মেয়েটা যখন কাঁদে, মা হয়ে তা সহ্য করতে পারি না। চোখের সামনেই মেয়েটা ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- এটা সহ্য করি কিভাবে। দয়া করে আপনারা সবাই একটু সাহায্যের হাত বাড়ালে আমার বুকটা খালি হতো না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন শিশু ফাতেমা খাতুনের (দুই বছর দুই মাস) মা রেনুকা খাতুন। তিনি বড়াইগ্রামের শরিষাহাট গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী।

জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম স্থানীয় একটি নন-এমপিও কারিগরি কলেজের কর্মচারী। এক ছেলের পর তাদের সংসারে ফাতেমার জন্ম হয়। এতে দারুণ খুশি ছিলেন তারা। কিন্তু সেই খুশি বেশিদিন টেকেনি। মাত্র এক সপ্তাহ পরই তারা বুঝতে পারেন, তাদের মেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ। শুরু হলো চিকিৎসকের কাছে দৌড়াদৌড়ি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু ফাতেমা ‘অক্সিপিটাল মেনিংগো এনকেফালোসেল’ রোগে আক্রান্ত। অর্থাৎ তার মস্তিষ্কে এক ধরনের তরল পদার্থ রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছে না। ফলে সে তরল পদার্থ জমা হয়ে মাথার পেছনে বড় টিউমারের আকার ধারণ করেছে। টিউমারসদৃশ এ অংশে বর্তমানে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত তার চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. মো. নেফাউর রহমান সুইট জানান, দ্রুত অপারেশন করে টিউমারসদৃশ বস্তুটি অপসারণ করতে হবে। এছাড়া বাঁচানো যাবে না শিশুটিকে। এ অপারেশনের জন্য দরকার কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু বিনাবেতনে চাকরি করে জহুরুল ইসলামের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না।

শিশুটির বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যেই মেয়ের চিকিৎসার পেছনে সর্বস্ব ব্যয় করেছেন। এখন আর তার কিছু নেই। অপারেশনে যে টাকা লাগবে তা জোগানোর সাধ্য নেই তার। বাবা হিসেবে সন্তানের এ অবস্থা সহ্য করতেও পারছেন না, কিছু করতেও পারছেন না। সমাজের দানশীল মানুষ এগিয়ে আসলে মেয়েটাকে বাঁচানো যেত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. মারিয়াম খাতুন বলেন, সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে শিশুটির চিকিৎসা সম্ভব হবে। আমি নিজেও যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব।

কেউ শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে এনআরবিসি ব্যাংক লক্ষ্মীকোল শাখার চলতি হিসাব-০১৯০৩৩৩০০০০০১৬৬ নাম্বারে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*