একসঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই বন্ধুর একসঙ্গে আগরতলায় পূজা দেখা হলো না

দুই বন্ধু মোহন বণিক (২৯) ও সুমন গোস্বামী (৩০)। ছিলেন সহপাঠী। চলাফেরা ছিল একই সঙ্গে। দুর্গাপূজা দেখতে তাঁরা যাচ্ছিলেন ভারতের আগরতলার উদ্দেশে। একসঙ্গে তাঁদের আর দুর্গাপূজা দেখা হয়নি। আজ রোববার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে লরির ধাক্কায় একসঙ্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মোহন বণিক হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌর শহরের বণিকপাড়ার গৌরাঙ্গ বণিকের ছেলে আর সুমন গোস্বামী মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের আদাঐর গ্রামের স্বপন গোস্বামীর ছেলে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা দুজনই একসঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। মোহন বণিক ইতিমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির জন্য মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরিবারের লোকজন তাঁর বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অপর দিকে সুমন গোস্বামী চাকরি খুঁজছিলেন। আড়াই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। তাঁর দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

মোহন বণিকের বউদি সুমা বণিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দেবরের ইচ্ছা ছিল শিক্ষকতা করার। কিন্তু তার সে ইচ্ছা পূরণ হলো না।’

সুমন গোস্বামীর চাচা সুভাষ গোস্বামী প্রথম আলোকে বলেন, সুমন তাঁর বন্ধুকে নিয়ে রোববার ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগাতলায় এবারের দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন দেখবেন। দশমী শেষে তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেটি আর হলো না।

আজ ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে তেলবাহী একটি লরি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী মোহন বণিক ও সুমন গোস্বামী ঘটনাস্থলে মারা যান।

আরও পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশায় লরির ধাক্কা, প্রাণ গেল দুজনের
সড়ক দুর্ঘটনা
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুখেন্দু বসু প্রথম আলোকে বলেন, পরিবারের লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মহাসড়ক আইনে মামলা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*