ফরিদপুর পলিটেকনিকের সুবর্ণজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থায় দু’গ্রুপ

ফরিদপুরের স্বনামধন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব আয়োজনের কথা ছিল ফপই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের। কিন্তু সেই সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অ্যাসোসিয়েশনের বিদ্যমান দু’টি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর একই সময়ে ক্যাম্পাসে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দিয়েছে দু’পক্ষ। দু’পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, মারামারি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যরা।

জানা গেছে, ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন দু’ভাগে বিভক্ত। এর এক পক্ষের সভাপতি প্রকৌশলী নির্মল কুমার সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী একে আজাদ। অপর পক্ষের সভাপতি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও সম্পাদক প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। এই দু’গ্রুপ একই দিনে একই সময়ে ফপই ক্যাম্পাসে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে নির্মল-আজাদ গ্রুপ ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ছিল প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অ্যালামনাইদের নিয়ে মিলন মেলা, ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কার্যক্রম। করোনাকালীন ব্যাপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রমও চালায় সংগঠনটি। কিন্তু গত রমজান মাসে হঠাৎ করে অ্যাসোসিয়েশনের একটি গ্রুপ সিরাজকে সভাপতি ও নজরুলকে সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করে কার্যক্রম চালাতে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সাধারণ সদস্যরা জানান, দু’পক্ষই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। পরিবেশটা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ সদস্যরা। তারা জানান, এটি আমাদের প্রাণের সংগঠন, ক্যাম্পাসটাও তাই। এত বছর পরে এসে সবাই একসাথে হবো, আনন্দ করবো, পুরানো স্মৃতিচারণ করবো, সেই আনন্দের জায়গাটা যদি শঙ্কায় পূর্ণ হয় তাহলে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের দরকার কি?

সাধারণ সদস্যরা আরও জানান, এটা কোনো রাজনৈতিক বা আর্থিক সংগঠন না, তাহলে এইখানে কেন ২/৩ টা কমিটি/গ্রুপ থাকবে। সবারই পদ পদবি লাগবে কেন? ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে সংগঠনটি করা সেটা আর এখন নেই।

এই বিষয়ে এক পক্ষের সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ জানান, আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম শুরু ২০১৭ সালে। ২০১৮ সাল থেকে আমরা এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২০২০ সালে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেসময় ফরিদপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমরা সেসময় স্থগিত করি। এখন সবার সম্মতিতে আগামী ১৪ অক্টোবর এই অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছি। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু এই অনুষ্ঠানকে বানচাল করতে বিরোধী একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াচ্ছে যা সাধারণ অ্যালামনাই সদস্যদের মনে শঙ্কা তৈরি করছে।

তিনি বলেন, আমি অ্যালোমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পিছিয়ে পরা, বেকার হয়ে যাওয়া প্রকৌশলীদের জন্য চাকরি ও অনুদানের ব্যবস্থা করেছি। ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালু করেছি। প্রতিটি জাতীয় দিবস পালনসহ নিয়মিত মিলন মেলার আয়োজন করি। রমজানের ইফতার মাহফিলের আয়োজন করি। সর্বশেষ মিলন মেলাতেও সহস্রাধিক সদস্য অংশ নিয়েছে। ১৪ তারিখের অনুষ্ঠানে দুই সহস্রাধিক সদস্যের অংশ গ্রহণের আশা করছি।

এই বিষয়ে অপর পক্ষের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের রেজ্যুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেয়া আরও ২ মাস আগে। এখন শুনছি কয়েকদিন আগে কয়েকজন গিয়ে নতুন করে আবেদন দিয়েছে। একটি চক্র আমাদের অনুষ্ঠানটিকে বানচাল করার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের আয়োজনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।

এই বিষয়ে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আক্কাস আলী শেখ জানান, দুই পক্ষই আমার কাছে ভেন্যু চেয়ে আবেদন দিয়েছে। আমি তাদের বলেছি, আপনারা দু’পক্ষ সমঝোতা হয়ে আসুন অথবা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আসুন। নইলে আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে লিখবো, সেক্ষেত্রে প্রশাসন যা বলবে তাই করতে হবে। কেননা সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন, এটা যেমন পলিটেকনিকের ভাবমূর্তি একই সাথে ফরিদপুরেরও ভাবমূর্তির বিষয় রয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*