ফের ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু

দু’দিন পর সোমবার সকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ।

এর আগে গত শনিবার রাজেন্দ্র কলেজের শহর শাখার সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কাজটির বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

কলেজের অধ্যক্ষ অসীম কুমার সাহা জানান, গত রোববার দুপুর ১টার দিকে এ কাজের ঠিকাদার তাকে ফোন করে জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর তাঁকে বন্ধ রাখা কাজটি আবার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে রোববার বৃষ্টি হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি।

এ কাজের ঠিকাদার মোহাম্মদ মিঠু জানান, গত রোববার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে আবার কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সোমবার সকাল থেকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, আজ কাজ করতে এসে নতুন কোন সমস্যা হয়নি।

ফলো করুন-
ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন সমকাল ইউটিউব
এদিকে গত শনিবার বিকেলে রাজেন্দ্র কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ওই কর্মসূচি থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবার কাজ শুরুর কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, এ সময়কালের মধ্যে কাজ শুরু করা না হলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা হবে।

জানা যায়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ সংলগ্ন মাঠটি জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি ছিল। আরএস ও এসএ অনুযায়ী এটি জেলা প্রশাসনের। তবে বিএস রেকর্ডে এটি শিক্ষা বিভাগের নামে রেকর্ড হয়। এ রেকর্ড সংশোধনের জন্য জেলার প্রথম জজ আদালতে জেলা প্রশাসনের করা একটি মামলা চলছে। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।

১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ওই মাঠ এবং মাঠ সংলগ্ন ভবনগুলো সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের কাছে হস্তান্তর করেন। এ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের আদেশে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনও জারি করে। এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল চন্দ্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির ওই আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রসঙ্গত গত রোববার সমকালের ১৫ পাতায় ‘সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ করল জেলা প্রশাসন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*