বাইরে তালা, ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিলো মা ও দুই সন্তানের লাশ

পাশের গ্রাম থেকে বেড়াতে আসেন রওশন আরার বোন। এসে দেখেন ঘরের বাইরে দিয়ে তালা দেওয়া। ঘর থকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পরে তালা ভেঙ্গে বোন ও তার দুই ছেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি এলাকার লোকজনকে ডাকেন। পরে এলাকাবাসী এসে থানায় খবর দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে পুলিশ ফাঁকা বাড়ি থেকে মা ও দুই ছেলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতরা হলেন- উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের মৌপুর নতুনপাড়া গ্রামের সুলতান হোসেনের স্ত্রী মোছা. রওশন আরা (৪০), মেজো ছেলে জিহাদ (১০) ও ছোট মাহিম (৩)।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে মা ও দুই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এর সঠিক কারণ জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলতান একেক সময় একেক নারীকে বিয়ে করতেন। এলাকাবাসী তাকে বহু বিবাহে আসক্ত ব্যক্তি হিসেবেই চেনেন। এছাড়াও কিছু দিন আগেই তিনি জেল খেটে বের হয়েছেন।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন- রওশন আরার স্বামী সুলতান জেল থেকে বের হয়েই লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করেছেন।

ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বরকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ঘরটি বাইরে থেকে দরজায় শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ ছিল। নিহত নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। তার স্বামীর এটা ছাড়াও একাধিক স্ত্রী আছে। নিহতদের বাড়ির পাশে আরেকটা বাড়ি থাকলেও তারা ঢাকায় থাকেন। তাই হয়তো ৪-৫ দিন হলো মরদেহগুলো ঘরে এভাবে থাকলেও কেউ জানতে পারেনি।

ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, একদিকে গ্রামটি আমার ইউনিয়নের একদম শেষ প্রান্তে, অপরদিকে ওই বাড়িটি গ্রাম থেকে অনেকটা দূরে একদম মাঠের ভেতরে। তবে নিহত রওশন আরার স্বামী সুলতান মাদকসহ নানান অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। সে মাঝে মাঝেই দুই-তিন মাসের জন্য হারিয়ে যায় ও যেখানে যায় সেখানেই একটি করে বিয়ে করে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু মরদেহগুলো ঘরে ছিল এবং ঘরের বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল তাই মনে হচ্ছে এটা অবশ্যই হত্যাকাণ্ড। তবে সুলতান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা এটা বলতে পারছি না, তবে সে খারাপ প্রকৃতির মানুষ।

বেলকুচি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। আমরা এসে দেখি ঘরের মধ্যে মরদেহগুলো পড়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৪-৫ দিন আগে এদের মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের সিআইডি ও পিবিআই টিমও এসেছিল, তারাও কাজ করছেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সম্ভাব্য কারণসমূহ পুলিশ আন্তরিকভাবে খতিয়ে দেখছে। আশা করছি খুব দ্রুত আমরা এর কারণ সম্পর্কে জানতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও বেলকুচি থানা মিলে জেলা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। মামলার তদন্তে এই মৃত্যুর সঠিক কারণ খুব দ্রুত খুঁজে বের করা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*