বাতাবিলেবু আর খড় দিয়ে বল বানিয়ে খেলা সেই মেয়েটিই কৃষ্ণা

বিশ্ব বিনোদন খেলা জীবনযাপন ইসলামী জীবন ভাইরাল প্রথম পৃষ্ঠা শেষ পৃষ্ঠা খবর শুভসংঘ
হোম
অনলাইন
জাতীয়
সারাবাংলা
সারাবিশ্ব
বাণিজ্য
বিনোদন
বিবিধ
চাকরি
রিপোর্টার্স ডায়েরি
খেলাধুলা
জীবনযাপন
তথ্যপ্রযুক্তি
পাঠককণ্ঠ
ইসলামী জীবন
পরবাস
ভাইরাল
কর্পোরেট কর্নার
ইসলাম ও মুসলিম বিশ্ব
বই মেলা
শুভসংঘ
কালের কণ্ঠ যুগপূর্তি
এশিয়া কাপ ২০২২
আজকের পত্রিকা
প্রথম পাতা
শেষের পাতা
খেলা
খবর
পড়ালেখা
শিল্প বাণিজ্য
দেশে দেশে
অবসরে
প্রিয় দেশ
টেক প্রতিদিন
ইসলামী জীবন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
রংবেরং
ফিচার
মুঠোয় বিশ্বকাপ
A টু Z
শিলালিপি
লাভ ক্ষতি
ঈদ সংখ্যা ২০২২
ঈদ সংখ্যা ২০২১
ঈদ উৎসব ২০২২
ডাক্তার আছেন
নারী দিবস বিশেষ সংখ্যা
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০২১
ঈদ আনন্দ
ই-পেপার

বাতাবিলেবু আর খড় দিয়ে বল বানিয়ে খেলা সেই মেয়েটিই কৃষ্ণা
কাজল আর্য, টাঙ্গাইল
৪ অক্টোবর, ২০২২ ১২:২৯

বাতাবিলেবু আর খড় দিয়ে বল বানিয়ে খেলা সেই মেয়েটিই কৃষ্ণা

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় অধ্যবসায় এবং সুযোগ-পরিচর্যা থাকলে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না। তার বিকাশ ঘটবেই, সে জ্বলে উঠবেই। সময়ের আলোচিত ফুটবলতারকা কৃষ্ণা রানী সরকারের উঠে আসার পথ মসৃণ নয়। তিনি এক দিনে তারকা বনে যাননি। তাকে এ পর্যন্ত আসতে পোহাতে হয়েছে অনেক কাটখড়। তবুও সাধনা থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের উত্তর পাথালিয়া একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। জেলা ও উপজেলা শহর থেকে বেশ দূরের এ গ্রামেই অতি সাধারণ পরিবারে জন্মেছেন সাফ টুর্নামেন্ট বিজয়ের কারিগর কৃষ্ণা। এবার বাড়িতে আসার পর তার অনুভূতি সত্যিই অন্য রকম, তিনি আপ্লুত। কৃষ্ণা ও তার পরিবারের সঙ্গে কিছু কথা হয় কালের কণ্ঠের।
কৃষ্ণার ফুটবলের পথ চলায় প্রেরণার একজন তার কাকা নিতাই সরকার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন সেই গল্প, ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলার প্রতি অসম্ভব আগ্রহ ছিল কৃষ্ণার। গ্রামের ধানক্ষেতে ও স্কুলের মাঠে ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলত। এটা নিয়ে প্রায়ই আমাদেরকে সমালোচনা শুনতে হতো। আমিই ওকে সর্বপ্রথম একটি তিন নম্বর ফুটবল কিনে দিই। কৃষ্ণা অনেক সময় বাতাবিলেবু ও খড় দিয়ে বল বানিয়েও পোলাপানের সঙ্গে বাড়ির উঠানেই খেলত। ওর বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না। তাই আমি কৃষ্ণাকে সাইকেলে করে খেলতে নিয়ে যেতাম। ওর ইচ্ছা ও জেদের কাছে আমরা হার মেনেই ছেড়েছি। আজ তো ওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই।

কৃষ্ণার বাবা বাসুদেব সরকার বলেন, আমাদের পরিবার তেমনটা সচ্ছল নয়। কৃষ্ণার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে স্কুলের স্যাররা চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন। তারাই স্কুলে ভর্তি করান। তারাই যাবতীয় খরচ বহন করেন। যখন নিয়মিত খেলা শুরু করল তখন অনেকেই অনেক কথা বলেছে। আমাদের খুব খারাপ লাগত। মনের কষ্টে কান্না ও রাগারাগি করেছি। বুঝেনই তো, আমরা গ্রামের মানুষ। একপর্যায়ে ভেবেছিলাম ওর খেলা বন্ধ করে দেব। কৃষ্ণা যে এত দূর যেতে পারবে এটা আমরা ও সমালোচকরা কেউ-ই ধারণা করতে পারি নাই।

মা নমিতা রানী সরকার বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় খেলা নিয়ে থাকত, তাই ওকে বকা দিতাম। খেলা বন্ধ করার কথা বললে খেতে চাইত না। লেখাপড়ার প্রতি অমনোযোগী থাকলেও ফুটবল যেন ওর প্রাণের নেশা। ওর সাফল্যে আমরা বড়ই খুশি। গ্রামের মানুষ ওকে দেখতে আসে, কথা বলতে আসে, ওর সঙ্গে ছবি তোলে। এখন আর কেউ কিছু বলে না। তিনি আরো বলেন, মেয়ের আয়ে আমাদের সংসার ও ছেলের পড়াশোনা চলে। কৃষিকাজ করে তেমন আয় হয় না। কৃষ্ণার জন্য আশীর্বাদ চাই। ও যেন দেশের জন্য আরো বড় বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।
কৃষ্ণার সাফল্যে তার নিজ গ্রাম থেকে শুরু করে পুরো গোপালপুর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলায় চলছে উল্লাস-আনন্দ। বৃহস্পতিবার গ্রামে ফেরার পর তার স্কুল ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে বরণের আয়োজন। শনিবার টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কৃষ্ণাকে দেওয়া হয়েছে জমকালো সংবর্ধনা, আর্থিক সম্মাননা এবং ক্রেস্ট।

শুরুতেই ফুটবলের রাজকন্যা কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানান। এখনকার অনুভূতি কেমন- এ প্রশ্নে কৃষ্ণা রানী সরকার বলেন, আসলেই এখন আমার সব মিলিয়ে ভালো লাগছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্কুলে গ্রামে সবাই সংবর্ধনা দিচ্ছে। আগে এ রকম খুশি হইনি। আপনার এ পর্যন্ত আসার পেছনে কার কার অবদান রয়েছে- আমার ছোট কাকা নিতাই সরকার আমাকে বেশি সাপোর্ট করেছেন। এ ছাড়া মা-বাবা, সাবেক স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক লতিফ স্যার, ক্রীড়া শিক্ষক বাপন স্যার, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এলাকাবাসী আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এ জগতে আসার ইচ্ছা হলো কেন? জবাবে বললেন, আমি ছোটবেলা থেকেই খেলাপাগল ছিলাম। বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়েই গ্রামের মেয়েরা খেলায় আসে। আগে তো আমরা এটা ভাবতেই পারতাম না। প্রাইমারি স্কুলে আমার খেলা দেখে বাপন স্যার আমাকে হাই স্কুলে ভর্তি করান। খেলাধুলার যাবতীয় সরঞ্জাম ও খরচ বহন করেন।

সমালোচকদের সম্পর্কে বললেন, একসময় অনেক কথা শুনেছি। তারাই এখন এসে বলেন, আগে আমরা বুঝতাম না, মেয়েরা এত ভালো করতে পারে। এখন আমি সব ভুলে গেছি। দেশের ফুটবল নিয়ে আপনার ভাবনা কী? যেহেতু আমরা বর্তমানে সাউথ এশিয়ায় ভালো অবস্থানে আছি, সেটা অব্যাহত রাখব। সামনে আশিয়ান গেমস আছে। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। যদি কঠোর অনুশীলন এবং শৃঙ্খলার মধ্য থাকতে পারি, তাহলে দেশকে আরো ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।
নিজের তারকাখ্যাতি নিয়ে বলেন, আমরা প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে। সেখান থেকে উঠে এসে শহরে যাওয়া, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, সব মিলিয়ে ভালোই লাগে। আমার অনুপস্থিতিতে আমার মা-বাবা জাপানের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন আমার সম্মাননা গ্রহণ করতে। সেদিন অনেক খুশি হয়েছিলাম।

গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু বলেন, একটি অজপাড়াগাঁয়ের কৃষক পরিবারের মেয়ে কৃষ্ণা আজ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। কৃষ্ণার আজকের অবস্থানে আসতে সূতি ভিএম সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ এবং স্কুলের শরীরচর্চা শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপনের বিশেষ অবদান রয়েছে। আমি ও আমরা ওর পাশে ছিলাম। ওকে উৎসাহিত করেছি, সহযোগিতা করছি। দরিদ্রতাকে জয় করে উঠে আসা মেধাবী

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*