যুবদল-ছাত্রদল নেতার দখলে থাকা শতকোটি টাকার প্লট উদ্ধার

কক্সবাজারের বহুল আলোচিত যুবদল ও ছাত্রদল নেতার দখলে থাকা সরকারি শতকোটি টাকার প্লট উচ্ছেদ করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকালে কলাতলীর প্রধান সড়কের সুগন্ধা পয়েন্টের রাস্তার পশ্চিম পাশে সরকারি প্লট থেকে তাদের ২০টির মতো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপসচিব) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ। এ সময় সাথে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, আনসার ও বিদ্যুৎ বিভাগ।

সূত্রমতে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জেলা যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম মকুল, জয়নাল আবেদীন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন রবিনের নেতৃত্বে উচ্চ আদালত থেকে বাতিল হওয়া সরকারি শতকোটি টাকার প্লট দখল করে দোকান, বাস কাউন্টার, রেস্টুরেন্টসহ নানা স্থাপনা করে চড়া মূল্যে ভাড়া ও নিজেরা ব্যবসা করে আসছিল। এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সামাজিক আন্দোলন থেকে শুরু করে সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীসহ সরকার দলীয় সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বহুল আলোচিত সরকারি প্লটগুলো দখলমুক্ত হয়।

কক্সবাজার শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুর রহমান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জসিম উদ্দিন জানান, পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের অবৈধ দখলে ছিল সরকারি শতকোটি টাকার প্লট। যেখানে ছিল অনেক অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু সর্বশেষ কউক কর্তৃক উচ্ছেদ হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও পর্যটন এলাকার মানুষ ন্যায়বিচার দেখেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আলোচনায় কিছুটা ভাটা নেমেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের একটি অসাধু মহল মাসিক মোটা অংকের মাসোহারা আদায় করত এই অবৈধ স্থাপনা গুলি থেকে। যে কারণে পর্যটন এলাকার কম বেশি সব খানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের এই অবৈধ মার্কেটে আঁচড় লাগেনি।

সূত্র জানায়, যুবদল ও ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে সুগন্ধা পয়েন্টে সরকারি শতকোটি টাকা মূল্যের খাসজমি দখল করে নির্মাণ করেছিল অর্ধশতাধিক দোকান। এই নির্মিত একেকটি দোকান বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি ভাড়া হয়েছে চড়া দামে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মুফিজ উল্লাহ জানান, হাইকোর্ট কর্তৃক ৫৪টি প্লট বাতিল করে সরকারি জমি সরকারি খাতে নিয়ে যায়। এ প্লটগুলো দখলবাজরা নানা কৌশল করে দখলে রাখতে চেয়েছিল। পাশাপাশি ভুয়া রিট আছে বলেই দখলে রেখেছিল।

তিনি আরও জানান, বিএনপি-জমায়াতের আমলে তাদের দলীয় নেতারা দখল করেছিল। পরে হাইকোর্ট এই প্লটগুলো বাতিল করে সরকারি খাসজমি সরকারি কোষাগারে নিয়ে যায়।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপসচিব) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ যুগান্তরকে বলেন, পর্যটন এলাকার কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে হাইকোর্টের বাতিলকৃত প্লটসমূহ অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা ঢাকা রান্নাঘর, কুমিল্লা কিচেন, ঢাকা রাঁধুনি রেস্টুরেন্টে অ্যান্ড বিরানি হাউসসহ ৮টি বাস কাউন্টার এবং অন্যান্য আরও কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর (অব.) মোহাম্মদ নুরুল আবছার যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্ট কর্তৃক প্লটসমূহ বাতিল করা হয়; কিন্তু বাতিলকৃত উক্ত প্লটসমূহে অবৈধভাবে রেস্টুরেন্ট, বাস কাউন্টার ও বিভিন্ন দোকান গড়ে উঠে। ফলে সরকারি জমি বেদখল হওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারে আগত পর্যটকসহ স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি জমি দখল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও মনোরম শহর হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই পরিকল্পিত নগরী বাস্তবায়নে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*