আমি যতদিন বেঁচে থাকব আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়াব না, স্ট্যাম্পে সই

ফুটবলে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই দলের লড়াই মানেই বিশেষ কিছু। এবারের কোপা আমেরিকার ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে এই দুই দল।

এর চেয়ে উত্তেজনার আর কি হতে পারে! আজ বুধবার সকালে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিতে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে লিওনেল মেসিরা।

ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক গোলরক্ষক অ্যামিলিয়ানো মার্টিনেজ। এদিকে স্বপ্নের ফাইনালে যাওয়ায় যখন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছেন আর্জেটিনার সমর্থকরা। এমন সময় জানা গেল,

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ‘নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে না জড়ানোর অঙ্গীকার করে ২০ টাকার স্ট্যাম্পে সই করেছেন এক ব্রাজিল সমর্থক।ওই স্ট্যাম্পে সাক্ষী হিসেবে আরেক ব্রাজিল সমর্থকের স্বাক্ষরও রেখেছেন তিনি।

এ ঘটনা নওগাঁর নিয়ামতপুরে। আর ব্রাজিলের ওই সমর্থক হলেন নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল বাকি।

স্ট্যাম্পে তিনি লেখেন, ‘আমি আব্দুল্লাহ আল বাকি, নিয়ামতপুর, নওগাঁ। আমি ২০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে,

এই দুনিয়ায় যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন আর্জেন্টিনা দলের কোনো সমর্থকের সঙ্গে তর্কে জড়াব না।’ ‘কারণ ওরা কোনো যুক্তিই বোঝে না। এদের আসল উদ্দেশ্য তর্কে জয়লাভ করা; খেলায় না। বিভিন্ন দলের শিরোপা সংখ্যা কথায় আসামাত্রই এরা পাগলা ষাঁড়ের মতো তেড়ে আসে।’ তিনি আরও লেখেন, “কতটা নির্বোধ হলে তারা আজও ‘সেভেন আপ, সেভেন আপ’ বলে চিল্লাপাল্লা করে,

যা দেখে জার্মানির সমর্থকেরাও অনেকটা হতাশ। কারণ জার্মানির অর্জনটাও তারা নিজেদের অর্জন বলে দাবি করে। তারচেয়ে বরং অন্যান্য দলের সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। ইতালি বা জার্মানি আছে; তাদের সঙ্গে জড়ান। শেয়ানে শেয়ানে লড়াই জমবে। কেন পাঁচতারকা থেকে ঠেলে দুই তারকার লেভেলে আনবেন?” ওই অঙ্গীকারনামায় নিজের সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিও যুক্ত করেন আল বাকি।

সাক্ষী হিসেবে রেখেছেন আশিকুজ্জামান নামের আরেক ব্রাজিল সমর্থককে। পরে পরিচিত আর্জেটিনা সমর্থকদের কাছে স্ট্যাম্পের ফটোকপি বিলিও করেছেন; পোস্ট করেছেন নিজের ফেসবুক আইডিতে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল বাকি বলেন, ‘আমার ছাত্ররাজনীতির সহযোদ্ধা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও ফুটবল খেলার সময় আসলে তাদের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়।

বারবার বোঝানোর পরেও ব্যর্থ হয়ে আমার এই অঙ্গীকারনামা, যাতে করে আর কখনো তাদের সঙ্গে আমার তর্কে জড়াতে না হয়। তাই এই বিষয়টিই যুক্তি সহকারে বোঝানোর চেষ্টা করেছি আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধুদের।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি অনেকের কাছে পাগলামি মনে হলেও আমাদের মতো ফুটবল খেলা দেখা প্রেমী বা সমর্থকদের জন্য সঠিক কাজ বলে মনে করি। সবাই যে যার দল সাপোর্ট করুক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *